ভোগান্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীরা

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:২৩  
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ গ্রাহকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শর্তে নতুন করে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। অনলাইনে বিদেশ থেকে পণ্য বা সেবা কেনার জন্য ব্যাংকের কাছ থেকে আগে ছাড়পত্র নেওয়ার নিয়ম জারি হওয়ায় দেশের ই-মানি সম্প্রসারণের পথ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। ব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল কার্ড বিপণনে সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে। অপরদিকে এই কার্ড ব্যাবহারকারীদের মধ্যে সবচেয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন দেশের অভ্যন্তরে ই-কমার্স ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, ডোমেইন ও হোস্টিং সেবার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য যারা ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টের কাজ করে থাকেন এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের মতো ফ্রিল্যান্সাররা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কেননা এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার জারির পর থেকে অনলাইনে বিদেশি পণ্য বা সেবা কিনতে ডলার পরিশোধের ক্ষেত্রে কার্ড ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে জমা দিয়ে ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্র্যান্ডিং, কমিউনিকেশান ও ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট মোঃ আশরাফুল আলম বলেন,  গত তিন বছর ধরে গুগলের ১০০ জিবির পেইড প্যাকেজ ব্যবহার করছি যার মূল্য বার্ষিক ২০ মার্কিন ডলার কিংবা ১৬০০ টাকা। এই অর্থ আন্তজার্তিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করে আসছিলাম। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তজার্তিক লেনদেন সীমিত করার পর এই বছরের সাবসক্রিপশান ফি দিতে পারছি না। যেকোন মুহুর্তে আমার জিমেইল সেবা বাতিল হয়ে যেতে পারে। এতে করে বর্তমান ডিজিটাল দুনিয়ার সবচেয়ে জরুরি ইমেইল কার্যক্রম থেকে আমাকে পিছিয়ে পড়তে হবে! কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশ থেকে পণ্য বা সেবা গ্রহণের জন্য ইন্টারন্যাশনাল কার্ড গ্রাহককে অনলাইন ট্রানজেকশন অথরাইজেশন ফরম বা ওটিএএফ পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিতে হবে। যাচাই শেষে ব্যাংক অনুমোদন দিলেই কেবল গ্রাহক অনলাইনে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। অনলাইনে জুয়া খেলাসহ অননুমোদিত লেনদেন বন্ধ করতে এ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতেই নতুন বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে দ্বৈত মুদ্রার কার্ড ব্যবহারকারীদের। নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশী পণ্য কেনাকাটায় আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারকারী গ্রাহকরা এককভাবে কোনো পণ্য বা সেবামূল্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করতে পারেন। তবে বছরে তা কোনো অবস্থাতেই ১ হাজার ডলারের বেশি হবে না। কার্ড ব্যবহার করে পণ্য কেনা বা সেবার মাশুল পরিশোধের ক্ষেত্রে এতদিন গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে অনুমতি নিতে হতো না। কিন্তু গত ১৪ নভেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন থেকে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারকারীদের প্রতিটি লেনদেনের জন্য গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে অনুমতি নিতে হবে। ওটিএএফ পূরণ করে জমা দিতে হবে ব্যাংকে। ব্যাংক সেটি যাচাই করে কোনো অসংগতি না পেলে তবেই গ্রাহক ক্রেডিট কার্ডে ডলার ব্যবহারের অনুমতি পাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন এ শর্ত নিয়ে বিপদে পড়েছে আন্তর্জাতিক কার্ড বিপণনকারী ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলো। কার্ড ব্যবহারে এ ধরনের শর্ত পুরো বিশ্বেই বিরল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংকার ও গ্রাহক উভয়েরই ভাষ্য, এ নিয়ম ‘বাস্তবসম্মত নয়’। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন শর্ত ‘মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার’ শামিল মন্তব্য করে ব্যাংকাররা বলছেন, এই পদ্ধতিতে ব্যাংকের ব্যয় বাড়বে, গ্রাহকদেরও ভোগান্তি হবে। ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে এমন গুরুতর সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এভাবে কড়াকড়ি না করে যেসব সেবা অবৈধ, বাংলাদেশ ব্যাংক তার তালিকা করে প্রতিটি সেবার জন্য বিদ্যমান আলাদা মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) বন্ধ করে দিলেই অবৈধ লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে গণহারে সব লেনদেনের হিসাব নিতে হবে না।